০৭৮: মনোযোগের ঘনত্ব অনুযায়ী মোড পরিবর্তনের পদ্ধতি
শহীদুল ফল খেতে খেতে冉静-কে জিজ্ঞেস করল, ‘‘তুমি তো এত বছর অপরাধ দমন বিভাগে কাজ করছ, কখনও কি পেশাদার খুনিকে দেখেছ?’’
冉静 মাথা নাড়ল, ‘‘না, বেশিরভাগ সময় নিয়মভঙ্গকারী বা অপরাধীর সঙ্গেই আমাদের মেলামেশা।’’
শহীদুল তাকাল শিমূলের দিকে, ‘‘তোমার তো দেখার কোনো প্রশ্নই ওঠে না, তাই তো?’’
সে দুই কাঁধ ঢিল দিয়ে বলল, ‘‘তাহলে তুমি কেন এখানে রাত পাহারায় এসেছ? জানো তো পেশাদার খুনিরা কীভাবে আক্রমণ চালায়?’’
‘‘আমাদের এখানে দশ-বারোজন গোপন প্রহরী আছে। কেউ এদিকে এলে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারকমে খবর যাবে, যথাযথ প্রতিরোধ হবে।’’
শহীদুল আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘‘তুমি তো জানো তিন গোষ্ঠী এক হয়ে সরকারি ভীতিতে ফাটল ধরাতে আমাকে খুন করতে খুনি পাঠাতে পারে। কিন্তু খুনির তালিকা কি জানো?’’
冉静 একটু থমকে গেল, ‘‘না, জানি না।’’
শহীদুল বিরক্তির সঙ্গে বলল, ‘‘তাহলে তুমি কি ভালোভাবে এই হাসপাতালের প্রবেশ-প্রস্থান, পালানোর পথ বা যেখান দিয়ে কেউ লুকিয়ে আসতে পারে, এসব খুঁজে দেখেছো? হাসপাতালের পুরো গড়ন কি জানো? না কি কোনো মহড়া করেছো?’’
冉静-রও নিজের মত ছিল।
‘‘আমি মনে করি তার প্রয়োজন নেই। ভাবো তো, তুমি সদ্যই ইয়ান গোষ্ঠীর প্রধানকে মেরে ফেলেছো। এই সময় যদি তোমার কিছু হয়, সবাই বুঝে যাবে কারা করেছে। ওরা যতই বোকা হোক, এখন এরকম ঝুঁকি নেবে না।’’
শহীদুল হেসে বলল, ‘‘তুমি ঠিক বলছো না। আমি হলে ঠিক এই সময়েই হামলা করতাম। কারণ, আমি আহত, আমাকে সরিয়ে দেওয়ার এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। আর, তোমার কথামতো, যদি বড় কাণ্ড হয়, তিন গোষ্ঠী দোষটা উত্তরের গোষ্ঠীর ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারে—বলা যেতে পারে তারা ইয়ান গোষ্ঠীর প্রধানের বদলা নিয়েছে। যদি এখন আক্রমণ না হয়, পরে আমি সুস্থ হয়ে কাজে ফিরলে আমাকে মারাটা মোটেও সহজ হবে না। তাছাড়া, সত্যিই যদি আমাকে এখন সরিয়ে দেয় আর প্রশাসনের রাগ আসে, তাও কী প্রমাণ আছে যে তিন গোষ্ঠী করেছে? আদালত তো প্রমাণ দেখে, ব্যক্তিগত ধারণা নয়।’’
冉静-র একটু অস্বস্তি হল তার যুক্তিতে।
‘‘তাহলে এভাবেই তুমি আমাকে পাহারা দিচ্ছো? আর শিমূল, তুমি কি মনে করো এটা খেলাচ্ছলে হচ্ছে? এখনই বাড়ি ফিরে যাও। পারলে,冉静, তুমিও চলে যাও, অন্য কাউকে দাও পাহারা দিতে।’’
শহীদুল চায় না এই দুজন কোনো বিপদে পড়ুক; বরং ওরা থাকলে ঝামেলা বাড়বে বলে মনে করছে।
‘‘তুমি কি মনে করো আমি চাই এখানে থাকতে? ওপরওয়ালারা আমাদের দলকেই পাঠিয়েছে, এই সুযোগে আমি উত্তরের গোষ্ঠীতে গিয়ে কৃতিত্ব অর্জন করতে পারলাম না, আমার দলও শুধু তোমার জন্য বিরক্ত হয়ে আছে।’’冉静 নাক সিঁটকাল, ‘‘আর, তুমি বাড়াবাড়ি করছো। আমি নিশ্চিত, ওরা এখনই আক্রমণ করবে না।’’
শহীদুল হতাশ হয়ে বলল, ‘‘তুমি যে কীভাবে এই পদে উঠলে, সেটা ভাবলে অবাক লাগে! এতটুকু বুঝো না।’’
‘‘তুমি আমার দক্ষতায় সন্দেহ করছো?’’冉静 রেগে গিয়ে দুই হাতে কোমর চেপে বলল, ‘‘তাহলে বাজি ধরবে?’’
শহীদুল বলল, ‘‘কিসের বাজি?’’
‘‘এই ক’দিনে যদি কোনো খুনি না আসে, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে তোমাকে আমার দলে আসতে হবে।’’
‘‘তোমার দলে? এটা তো তোমার হাতে নেই, তাই তো?’’ শহীদুল অবাক।
‘‘নিশ্চয়ই নয়, তবে তুমি এবার বড় কৃতিত্ব দেখিয়েছ, আমি মনে করি অফিসার তোমাকে সাধারণ থানায় রাখবে না, বরং সদর দপ্তরে পাঠাবে। তুমি হারলে আমার দলে এসে আমার অধীনে থাকবে, তখন আমি দেখাবো冉队-র আসল রূপ।’’
পদের বদল মানেই অপরাধীদের হাত থেকে মুক্তি, শহীদুলও মন্দ মনে করল না, মাথা নেড়ে বলল, ‘‘ঠিক আছে, তুমি হারলে?’’
冉静 বলল, ‘‘তুমি আমাদের দলে এলে আমি তোমাকে শহীদ队 ডাকব।’’
‘‘বাহ, মজার বাজি।’’ শহীদুল হাসল, ‘‘ঠিক আছে।’’
‘‘সব কাজ তো করতে পারি না, তবে তুমি যা খেতে চাও, আমি এনে দিতে পারি।’’ শিমূল একটু রাগে-রাগে বলল, ‘‘এই প্রথম দেখলাম কোনো পুরুষ আমাকে পাশে চায় না। আমি তোমাকে ফল খাইয়েছি কারণ তুমি আমাকে জিতিয়েছিলে, না হলে আমি কেন আসতাম?’’
‘‘তুমি তো উত্তরের গোষ্ঠীর প্রধানের পক্ষে বাজি ধরেছিলে?’’ শহীদুল জানতে চাইল।
‘‘আমি ব্যবসায়ীর মেয়ে, অডসে তো ফারাক ছিল, যদি অঘটন ঘটে যায়! উত্তরের গোষ্ঠীর প্রধানে কি লাভ? বরং তোমার ওপর বাজি রেখে কিছু পেতে চেয়েছিলাম।’’ শিমূল গর্বিতভাবে বলল, ‘‘গতবার ক্যাসিনোতে তুমি আমায় ফাঁকি দিয়েছিলে, এবার কে জানে তোমার কাছে কি লুকিয়ে আছে। তাই তোমার জয়ের পক্ষে বাজি ধরেছিলাম।’’
শহীদুল তার দিকে প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসল, ‘‘বুঝতে পারছি, তোমার দৃষ্টি ভালো।’’
‘‘উঁহু, আমি তো আন্দাজেই ধরেছিলাম, বিশ্বাস করিনি তোমাকে।’’
冉静 বলল, ‘‘ঠিক আছে শহীদুল, ডাক্তার বলেছে তোমার বিশ্রাম দরকার, কম কথা বলো। এখন রাত এগারোটা বাজে। তুমি ঘুমাও, আমরা পালা করে নার্সকে বলব ইনজেকশন পাল্টাতে।’’
শহীদুল মাথা ঝাঁকাল, একটু চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করল। হঠাৎ মনে পড়ল, আগের সেই অদ্ভুত চোখের ব্যাপারটা, এবার ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে চাইল—কেন অজ্ঞান হওয়ার পর তার চোখে এমন পরিবর্তন আসল?
চোখ মেলে ধরল, কিছুই বদলায়নি। আবার চোখ বন্ধ করে খুলল, তবুও কিছু না। শিমূল দেখল সে এভাবে করছে, প্রশ্ন করল, ‘‘তুমি কী করছ?’’
‘‘কিছু না, বেশি ঘুমানোর ফলে ঘুম আসে না, চোখ ক্লান্ত করতে চাইছি যাতে ঘুম আসে।’’ শহীদুল ব্যাখ্যা দিল।
শিমূলও আর কিছু বলল না। শহীদুল চিন্তায় পড়ে গেল—কীভাবে আগের মতো জিনিসের ভেতর দেখতে পারবে? আগের সেই অবস্থা যেন এক্স-রশির মতো ছিল, সবকিছু ভেদ করে দেখেছিল।
সে চোখ বন্ধ করল, গভীর শ্বাস নিল, মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করল। এক মিনিট ধরে মনোযোগ ধরে রেখে পুনরায় চোখ খুলল। এবার冉静 ও শিমূলের দেহখানা কেবল সাদা কঙ্কাল-আকৃতিতে দেখতে পেল, যেন চলমান হাড়ের পুতুল।
হঠাৎ ভয় পেয়ে চোখ বন্ধ করল, নিজেকে শান্ত করল। সত্যিই স্বপ্ন না—তার চোখে আসলেই অদ্ভুত পরিবর্তন এসেছে!
আবার চোখ খুলল, এবার মনোযোগ আগের তুলনায় একটু কম। যা দেখল, তাতে রক্ত চঞ্চল হয়ে উঠল—冉静 ও শিমূলের জামা-কাপড়, সাজসজ্জা যেন অদৃশ্য, শুধু অন্তর্বাস আর ছোট প্যান্টিতে রয়েছে তারা; সুগঠিত শরীর, সুঠাম বুকের রেখা, ত্বকের নিখুঁত যত্ন—সবই স্পষ্ট। একেবারে ভুল দৃশ্য দেখে দ্রুত চোখ বন্ধ করল, হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল।
মনে মনে বলল, কী হচ্ছে? প্রথমবার তো শুধু কঙ্কাল দেখেছিলাম, এবার কেন শুধু পোশাক ভেদ করে দেখছি? মনে হচ্ছে মনোযোগের উপর নির্ভর করছে, ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা দেখতে পাচ্ছি।
এ কথা ভাবতেই আবার চোখ বন্ধ করে মনোযোগ দিল, এবার চোখ খুলতেই সে দেখতে পেল সামনে একটা বড় হলঘর, সেখানে অনেক রোগী, অনেক বিছানা, নার্সরা ডিউটিতে ব্যস্ত, ওষুধ পাল্টাচ্ছে।
শহীদুল ফের চোখ বন্ধ করে একটু শান্ত হল, আবার চোখ খুলে দেখল, সব স্বাভাবিক।
নিজের দেখা সত্যি কিনা নিশ্চিত হতে ইচ্ছে করছিল শিমূলকে জিজ্ঞেস করে, ‘‘তুমি কি বেগুনি রঙের অন্তর্বাস পরেছ?’’
কিন্তু মুখ বন্ধ রাখল, কারণ এমন কথা বললে মেয়েটা মেরেই ফেলবে। অথবা চাইলে জিজ্ঞেস করতে পারে, ‘‘তুমি কি ছত্রিশ সি?’’
তবুও, সে জানত, এমন প্রশ্নে ফল একটাই—মার খাওয়া।
অগত্যা冉静-কে জিজ্ঞাসা করল, ‘‘পাশের ঘরটা কি সবার ইনজেকশন দেওয়ার জায়গা?’’
冉静 একটু অবাক হয়ে বলল, ‘‘হ্যাঁ, তুমি জানলে কী করে?’’
শহীদুল মনে-মনে দারুণ উত্তেজিত, বিস্মিতও, কারণ শেষবার সে যা দেখেছিল, সেটা ছিল এই দেয়াল ভেদ করে পাশের ঘরের দৃশ্য।