বাহান্নতম অধ্যায়: অবরোধ মুক্তি

ফেংশেনের রক্তপিপাসু বিশেষ বাহিনী কুন নিএ 1409শব্দ 2026-03-19 13:31:12

মেয়েটি হাত বাড়িয়ে বৃদ্ধের হাত থামিয়ে দিল। যদিও তার মনেও ভয় ছিল, ছোট্ট দেহটি সামান্য কাঁপছিল, তবুও সে দৃঢ়তার সঙ্গে বৃদ্ধের কাজটি বাধা দিল। বৃদ্ধ তার জামার হাতা ধরে টানাটানি করলেও সে উপেক্ষা করে কঠোর স্বরে বলল, ‘‘হুঁ, ওরা তো ভণ্ড, আমরা কিভাবে অপবাদ দিলাম? কেন আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে? যদি কাউকে ধরতে হয়, ওদেরই ধরো!’’

‘‘তুমি কীভাবে কথা বলছো, মেয়ে? বিষয়টা তো পরিষ্কার। যদি কিছু বলার থাকে, আমার সঙ্গে থানায় চলো, সেখানেই সব বলো!’’ সেই পুলিশটিও বিরক্ত হয়ে পড়ল, আর ভান করল না, সরাসরি মেয়েটির হাত ধরতে এগিয়ে এল।

‘‘থানায় যেতে আপত্তি নেই, কিন্তু গায়ে হাত দিয়ো না!’’ মেয়েটি শরীর ঘুরিয়ে সেই দুর্বল পুলিশটির বাড়ানো হাত এড়িয়ে গেল, বুক চিতিয়ে উচ্চস্বরে বলল।

লিন কুনজে মাথা নাড়ল। এই মেয়েটি কতটা সরল! থানায় যাওয়ার আগেই বিপদে পড়বে। সে এক চোখে দেখল, পথের পাশে বসে থাকা ভিখারিকে, তারপর হঠাৎ দৌড়ে গিয়ে ভিখারির নিচের ঠেলাগাড়ির হাতল ধরে বলল, ‘‘আরেহ, এটা তো আমার ঠেলাগাড়ি! এখানে কী করছে?’’ চারপাশের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সে ঠোঁটে একধরনের চতুর হাসি ফুটিয়ে জামার হাতা গুটিয়ে অভিনয় করতে করতে ভিখারিকে লাথি মারল, ‘‘তুই এত সাহস কোথায় পেলে, আমার জিনিস চুরি করিস? মরতে চাস?’’

ভিখারি ঠেলাগাড়ির ওপর বসে এড়াতে চাইল, কিন্তু লিন কুনজে যাকে লাথি মারবে তাকে আটকানো কার সাধ্য! প্রচণ্ড শব্দে লাথিটা ভিখারির বুকে লাগে, যদিও সে বেশি শক্তি ব্যবহার করেনি, নইলে তো লোকটা সেখানেই শেষ হয়ে যেত। ভিখারি এই আঘাতে পেছনে পড়ে যায়, স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় তার শরীর পেছনে ঝুঁকে যায়, আর চওড়া জামার ভেতরে লুকানো হাতদুটি দিয়ে মাটিতে ভর দেয়।

‘‘ওহো, তোর তো হাত আছে, তাহলে পড়ে যাচ্ছিস না কেন? মনে হচ্ছে বিশেষ শক্তি আছে তোর!’’ লিন কুনজে ঠাট্টা করে বলে ভিখারির জামার কলার ধরে তাকে তুলে তোলে।

‘‘আহ!’’ অনেকটা জোরে তোলার ফলে ভিখারির ঠেলাগাড়ির নিচে লুকিয়ে রাখা পা দুটো লোহার পাতের সঙ্গে ঘষা লাগে, রক্ত বেরিয়ে যায়, যন্ত্রণায় সে চিৎকার করে ওঠে। কিন্তু শূন্যে ঝুলে থাকা তার পা দুটো আসলে পুরোপুরি অক্ষত ছিল, আর বারবার ছটফট করছিল। এই দৃশ্য দেখে চারপাশের লোকজন হেসে উঠল।

‘‘তুমি, তুমি কেন মারছো?’’ সেই দুই সুঠাম দেহের লোকজন কাছে এসে চিৎকার করতে করতে দুই মুষ্টি লিন কুনজের ওপর চালিয়ে দিল।

‘‘হুঁ!’’ লিন কুনজে ঠান্ডা একটা শব্দ করে, আর কেউ তার তত্পরতা দেখতে পায় না, শুধু শরীরের ধাক্কার শব্দ শোনা যায়, আর দুই সুঠাম লোক উড়ে গিয়ে সেই দুর্বল পুলিশের সামনে পড়ে যায়। তারা দু’জনেই বুকে হাত চেপে ধরে মাটিতে পড়ে কাতরাতে থাকে, আর নড়ার শক্তিও পায় না।

‘‘এ কী, এখনো কোনো আইন আছে? পুলিশের সামনেই মারধর?’’ সেই দুর্বল পুলিশ চিৎকার করে কোমর থেকে পিস্তল বের করে লিন কুনজের দিকে তাক করে ধরে।

‘‘তোমার ছয়চৌষট্টি তুলে রাখো! এই লোহার টুকরো আমার কোনো কাজেই আসবে না!’’ লিন কুনজে পুলিশের যুদ্ধংদেহী ভাব দেখে অবজ্ঞাভরে হাত নেড়ে বলল।

‘‘দেখছি তুমি বন্দুককেও ভয় পাও না, নিশ্চয়ই তুমি অভ্যস্ত অপরাধী, সম্ভবত পলাতকও। সঙ্গে সঙ্গে থানায় চলো, তাহলে কিছুটা দয়া পাবা, নইলে এখানেই গুলি করে মারব!’’ পুলিশ ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে দেখে সাহস করে কোমর থেকে হ্যান্ডকাফ খুলে লিন কুনজের সামনে ছুঁড়ে দিল। সে মনে মনে ভেবেছিল, আগে সবাইকে নিয়ে যাই, ওরা চারজন থাকলে আর ভয় কী! শুধু এই লোকটাই বিপজ্জনক, সে চুপচাপ হাতকড়া পরলে তো আর ভয় নেই, আর না পরলে গুলি তো তাকেই চলবে, পরে বলবে পুলিশকে আক্রমণ করেছে!

ভাবনাটা যতই জমকালো হোক, বাস্তবতা বড় করুণ। হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে এক কণ্ঠ ধ্বনিত হল, ‘‘তুমি সাহস করছো?’’ সবাইকে ঠেলে বেরিয়ে এল এক অপূর্বা তরুণী, যার মুখে আগুনের মতো রোষ। তার পেছনে সেনাবাহিনীর পোশাকে এক যুবক। ‘‘কে তোমাকে এই ক্ষমতা দিয়েছে? পুলিশ কি এমন যে, যখন তখন বন্দুক বের করবে আর নাগরিকের দিকে তাক করবে? তোমার ইচ্ছায় মারবে?’’

‘‘তুমি কে? পুলিশি কার্যক্রমে অপ্রাসঙ্গিক কেউ থাকলে চলে যাও, বন্দুকের গুলি কিন্তু কাউকে চেনে না!’’ পুলিশটি কঠোর স্বরে প্রতিবাদ করল, যদিও তার হাত কাঁপছিল, আর মনে আতঙ্কও বাড়ছিল। সামনের তরুণীর পোশাক দেখে মনে হলো, সে সাধারণ কেউ নয়, আর তার পেছনের সেনা-ছেলেটি যে নিরাপত্তারক্ষী, তা বোঝাই যাচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, এখন সবাইকে নিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই, পরে তো যা খুশি বলবে!

তরুণী রাগে হাসল, চিকন আঙুল তুলে সেই পুলিশটির দিকে ইঙ্গিত করে কঠিন স্বরে বলল, ‘‘তুমি কোন থানার পুলিশ? আমি দেখতে চাই, এমন পুলিশকে কে নিয়োগ দিয়েছে?’’