ভালোবাসা এক মহামিথ্যাবাদী, দু’জন সত্যিই ভালোবাসলেও তারা একসঙ্গে থাকতে পারে না। চলুন, আমরা সবাই মিলে এই বেদনাময় যাত্রার দিকে দৃষ্টি দিই।
কেউ কেউ বলে বিয়ে হলো ভালোবাসার সমাধি, আবার কেউ বলে ভালোবাসা হলো বিয়ের একটি সংযোজন। যখন ভালোবাসা আর বিয়ে একসাথে থাকতে পারে না, তখন নানারকম ঝামেলা এসে হাজির হয়। এই কথা ঝাং ইয়ং খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে।
শেনচেন—একটি আধুনিক মহানগর। এখানকার জীবনের গতি এত দ্রুত যে তা অবিশ্বাস্য। আর ঝাং ইয়ং, যে ধীরে ধীরে এখানকার সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, তাকে এখন এখান থেকে চলে যেতে হবে। না, সঠিকভাবে বললে, পালাতে হবে। এখানকার জীবনের চাপের কারণে নয়, ক্লান্তিকর ব্যস্ততার কারণেও নয়। সে শুধু একজন মানুষকে এড়িয়ে চলছে—যে তাকে একসময় সুখী করেছিল, আবার অসহ্যভাবে কষ্টও দিয়েছিল।
সন্ধ্যার সময়, দালিয়ানের দিকে যাওয়া ট্রেন ধীরে ধীরে স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেল। ঝাং ইয়ং জানালার পাশে বসে নীরবে বাইরে তাকাল। পথের মানুষগুলো তাড়াহুড়ো করে চলেছে, যেন এক অদৃশ্য চাবুক তাদের সারাক্ষণ তাড়িয়ে দিচ্ছে। আর ঝাং ইয়ংও একসময় তাদেরই একজন ছিল। এখন সে শুধু দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে চায়—এই দুঃখের, আবার স্মৃতিভরা শহর ছেড়ে।
জানালার বাইরের দৃশ্য ধীরে ধীরে চোখের সামনে থেকে মিলিয়ে যেতে লাগল, আবার নতুন দৃশ্য এসে ভিড় করল। নান্দনিক দৃশ্যের এই পরিবর্তনের সাথে সাথে ঝাং ইয়ং-এর মনের ভেতরও হাজারো ভাবনা ঘুরপাক খেতে লাগল। তার দৃষ্টি ক্রমশ এই বদলে যাওয়া দৃশ্যের সাথে মিলিয়ে বিমূর্ত হয়ে পড়ল।
ঝাং ইয়ং এখান থেকে পালাচ্ছে। শেনচেন ছাড়ার খবর সে কাউকে জানায়নি। তার পদত্যাগপত্র এখন নিশ্চয়ই বসের টেবিলে পড়ে আছে। সে কল্পনা করতে পারে, বস তা দেখে কীভাবে রেগে আগুন হয়ে যাবেন। আর সহকর্মীদের মধ্যে কী নানা গুজব ছড়াবে। সে আরও বুঝতে পারে, সে—যে নারী তাকে এত ভালোবাসে—জানতে পারলে কতটা কষ্ট পাবে, কতটা অসহায় অনুভব করবে। তবু সে থাকতে পারেনি, থাকার সাহস পায়নি। এটা তার প্রথম নজির, কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে যাওয়া, আ