চেন জিউ ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখল সে এক পাহাড়ি হরিণে পরিণত হয়েছে। বিপদের মুহূর্তে এক নির্জন সন্ন্যাসী এসে তাকে উদ্ধার করল। সেই সন্ন্যাসী তাকে পথ দেখাল, অমরত্বের সাধনার কথা বলল এবং দেহের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার পদ্ধতি শেখাল। চেন জিউ তার কথামতো সাধনা শুরু করল এবং ধাপে ধাপে নিজের চেষ্টায় আত্মগঠনের পথ বেছে নিল। কিন্তু রাক্ষসের শরীরে মানবের সাধনা— স্বর্গের বিধান তা কখনোই মেনে নেয় না!
পাহাড়ি বৃষ্টি নামল, প্রকৃতি সিক্ত হল। বৃষ্টির রাতে বন্য পশুর গর্জন কমে গেল। গোটা অরণ্য নিস্তব্ধ, শুধু বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ।
হঠাৎ এক বজ্রপাতে গোটা অরণ্য কেঁপে উঠল। বিদ্যুতের আলোয় আকাশ আলোকিত হয়ে গেল।
অরণ্যের মাটিতে পড়ে আছে একটি আহত হরিণ। পেটে গভীর ক্ষত, তার ওপর লোহার তীর।
বৃষ্টি হরিণের গায়ের রক্ত ধুয়ে দিচ্ছে। সে সম্পূর্ণ ক্লান্ত, ডাকতেও পারছে না। অসহায়ভাবে রক্ত ঝরতে দেখছে।
'মরতে হবে...'
চেন জিউ ঘাড় ঘুরিয়ে নিজের গায়ে ঢোকা তীরের দিকে তাকাল। একটু জোর করলেই ক্ষত থেকে রক্ত বের হয়। সে আর নড়তে সাহস পায় না।
পনেরো দিন আগে চেন জিউ অরণ্যে জেগে উঠে হরিণের ডাক শুনতে পেল। হতবাক হয়ে দেখল সে হরিণ হয়ে গেছে।
মেনে নেওয়া কঠিন হলেও 'যেখানে গেলে সেখানেই মানিয়ে নিতে হবে' ভেবে বাঁচার জন্য সে প্রতিদিন বিপদের মধ্যে ঘুরেছে। কয়েকবার শিকারীর হাত থেকে বাঁচলেও শেষ পর্যন্ত শিকারের তীর এড়াতে পারেনি।
শিকারীর হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে পথে তীর লাগে। আহত অবস্থায় পালিয়ে যায়। তখন মাথায় শুধু এক想法—যতদূর সম্ভব দৌড়াও। কখন থামল, কোথায় এল, খেয়াল নেই। পেছনে শিকারীর চিহ্ন না থাকা পর্যন্ত দৌড়েছে। শেষে ক্লান্ত হয়ে অরণ্যে লুটিয়ে পড়ে।
'আকাশের অনিশ্চয়তা, মানুষের সুখ-দুঃখ। আসলে ভাগ্য খারাপ।'
মাটিতে শুয়ে থাকা হরিণটিই চেন জিউ। এখন আর কিছু করার নেই। এত পথ দৌড়াতে প্রায় সব রক্ত বেরিয়ে গেছে। চোখ ভারী হয়ে আসছে, যেকোনো মুহূর্তে ঘুমিয়ে পড়তে পারে। বৃষ্টি না জাগিয়ে রাখলে অর্ধপথেই অজ্ঞান হয়ে মরে যেত, অথবা শিকারীর হাতে পড়ত।
এটাই সত্যিকারের মৃত্যুপথ। এ ভেবে চেন জিউ অনেক কিছু ছেড়ে দিল। আগের জীবনের অভিমান, এই জীবনের পনেরো দিনের হরিণ জীবন। আর একবার মরলে ভয় পাওয়ার কিছু থাকবে না।
আবার কি পরের জীবন